বাড়ি বাংলাদেশ শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা (অ্যালবাম)

শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা (অ্যালবাম)

আজ (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ।
বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে নির্মাতা সোহেল আরমান বলেন, ‘একজন শিল্পী যে সম্মান নিয়ে পৃথিবী থেকে যেতে চান, আমার বাবা সেই সম্মানই পেয়েছেন। ছেলে হিসেবে এটা আমার কাছে অনেক গর্বের বিষয়। আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধাএদিকে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আমজাদ হোসেনের মরদেহ এটিএন বাংলা হয়ে বিএফডিসিতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে চ্যানেল আইয় প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে আমজাদ হোসেনের মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হবে জামালপুর। এই চলচ্চিত্রকারের শেষ ইচ্ছানুযায়ী জামালপুরেই সমাহিত হবেন তিনি।
শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধাগেল শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমজাদ হোসেন। এর আগে গেল ১৮ নভেম্বর ব্রেন স্ট্রোক করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি উদ্যোগে ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককে নেওয়া হয়।
মৃত্যুর টানা এক সপ্তাহ পর শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে ঢাকায় পৌঁছেছে আমজাদ হোসেনের মরদেহ।
শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা৭৬ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নানা ধরনের কাজের জন্য সমাদৃত। একাধারে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে কাজ করছেন।
গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া শিশুসাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশুসাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধাকাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন।
শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধাতার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমণি’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’, ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ প্রভৃতি।